জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত
- আপডেট সময় : ১২:৫০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বের ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত উন্মুক্ত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি (হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর)-তে দুটি মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান হ্যাড্রিয়ান এই ত্রুটিগুলোর নাম দিয়েছে ‘পিএইচপি২শেল’। ১৯৯৪ সালে রাসমুস লারড্রফের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা পিএইচপি ১৯৯৫ সালে বাজারে আসার পর থেকেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। বর্তমানে ফেসবুক ও উইকিপিডিয়ার মতো বড় সাইটসহ বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট এই ল্যাঙ্গুয়েজের ওপর ভিত্তি করে চলছে। বিশেষ করে ওয়ার্ডপ্রেসের মতো কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলো পিএইচপি ব্যবহারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। ওয়ার্ডপ্রেসের মতো জনপ্রিয় কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসহ বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট এই ভাষার ওপর নির্ভরশীল। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত একটি সার্ভার-সাইড স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ। উইকিপিডিয়া ও ফেসবুকের মতো শীর্ষ ওয়েবসাইটগুলোও পিএইচপি ব্যবহার করে থাকে।
পিএইচপির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পিএইচপি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ভাষাটির কোডের মেমোরি ব্যবস্থাপনা এবং ত্রুটি শনাক্তকরণ অংশে এই দুর্বলতাগুলো ধরা পড়েছে। যেকোনো ওয়েব অনুরোধ প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে এই অংশগুলো মূল ভূমিকা পালন করে। গবেষকদের মতে, হ্যাকাররা সহজেই মেমোরির তথ্য বিকৃত করে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে ডেটাবেজ ও ফাইলে সরাসরি অনুপ্রবেশের মাধ্যমে স্পর্শকাতর সব তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোড অডিট এবং গবেষক রায়ানের যৌথ প্রচেষ্টায় এই নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো বেরিয়ে আসে। তবে প্যাচ বা সমাধান প্রকাশের আগেই এই ত্রুটির তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়ে পড়ায় এক চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র (এনসিএসসি) বিভিন্ন সংস্থাকে ৫০ হাজারের বেশি জরুরি সতর্কবার্তা পাঠায়। তথ্য ফাঁসের কারণে প্যাচ প্রকাশের আগ পর্যন্ত ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার এক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা সাইবার নিরাপত্তার ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পিএইচপি ফাউন্ডেশনের ভাষ্যমতে, এই ত্রুটি দূর করা প্রযুক্তিবিদদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে সফটওয়্যারের আগের সংস্করণের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সার্ভারের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া কিংবা তৃতীয় পক্ষের তৈরি বিভিন্ন এক্সটেনশনে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বিদ্যমান ওয়েবসাইটগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা উভয়ই এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

























