রমজানে ভোজ্য তেলের দাম বাড়াবে না সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রমজান উপলক্ষে ভোজ্য তেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানি নির্ভর পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে সরকার বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি পাইপলাইনে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, আমাদের পাইপলাইনে যে পরিমাণ পণ্য মজুদ আছে তা বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম এবং জাহাজভাড়ার পরিবর্তনের ওপর দেশের বাজারের দাম অনেকাংশে নির্ভরশীল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ছোলার আন্তর্জাতিক দাম কিছুটা বাড়লেও সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আমদানিকারকদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। এলসি খোলা বা ঋণপত্র সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো বড় ধরনের অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে কোনো আমদানিকারক ব্যাংকিং সমস্যার সম্মুখীন হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথেও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর রপ্তানি সক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

























