প্রথমবার কৃষ্ণগহ্বরের ‘চলমান চিত্র’ ধারণের প্রস্তুতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের
- আপডেট সময় : ১০:৫১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮৪ বার পড়া হয়েছে
মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো একটি অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোলের ‘চলমান চিত্র/ছবি’ বা ভিডিও ধারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের মতে ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে জ্ঞানকে কয়েক গুণ এগিয়ে দিতে পারে।
এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ চালাবে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ (ইএইচটি)। মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে এই বৈশ্বিক টেলিস্কোপ নেটওয়ার্ক মেসিয়ার ৮৭ গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা বিশাল ব্ল্যাক হোলকে পর্যবেক্ষণ করবে। লক্ষ্য হলো ব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজনের প্রান্তে ঘূর্ণায়মান গ্যাস ও ধুলোর ডিস্কের ধারাবাহিক ছবি ধারণ করা, যা একত্রে একটি ‘মুভিং ইমেজ’ তৈরি করবে। খবর গার্ডিয়ানের।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্লুমিয়ান অধ্যাপক সেরা মার্কফ বলেন, ‘এই মুভি ক্যাম্পেইন শুধু প্রযুক্তিগতভাবে নয়, বৈজ্ঞানিক দিক থেকেও বিপ্লবী। এটি আমাদের গবেষণাকে এক লাফে কয়েক গুণ এগিয়ে দেবে।’ তিনি জানান, এর মাধ্যমে ব্ল্যাক হোল কত দ্রুত ঘুরছে এবং কীভাবে সেখান থেকে বিশাল শক্তিশালী জেট বের হয়-এসব বড় প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
২০১৯ সালে ইএইচটি প্রথমবার ব্ল্যাক হোলের ছায়ার ছবি প্রকাশ করেছিল। এবার লক্ষ্য আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী। মেসিয়ার ৮৭-এর ব্ল্যাক হোলটির ভর সূর্যের প্রায় ৬০০ কোটি গুণ এবং এর আকার পুরো সৌরজগতের সমান হওয়ায় এটি তুলনামূলক ধীরগতিতে পরিবর্তিত হয়। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে তোলা ছবিগুলো জোড়া দিয়ে একটি ভিডিও বানানো সম্ভব।
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই পর্যবেক্ষণ ব্ল্যাক হোল কীভাবে গ্যালাক্সির বিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করে এবং নতুন নক্ষত্র তৈরিতে প্রভাব ফেলে-তা বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে সময় লাগবে। তাই বিশ্ববাসীকে ব্ল্যাক হোলের এই ‘চলমান দৃশ্য’ দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
























