ব্যাটসম্যানদের জেতানো উচিত ছিল: তাসকিন
- আপডেট সময় : ০৭:০১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি জয়ের ভালো সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে, তবে ব্যাটিং ব্যর্থতায় দল হেরেছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে। শুরুতে দারুণ বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেললেও, শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পারেনি বাংলাদেশ। ইনিংস গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৭২ রানে। ম্যাচ শেষে এমন হারের দায়ভার সরাসরি ব্যাটসম্যানদের ওপরই চাপিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। তারপরও এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের দায়টা ব্যাটসম্যানদেরই দিচ্ছেন তাসকিন। শনিবার আবুধাবিতে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের এই পেসার বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আজকে যেরকম পিচ ছিল, আমরাও তো বল করেছি, একটু এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু পানিশড হচ্ছিলাম। যেভাবে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারল বাংলাদেশ। বোলিংয়ে তাও তো একটা ধারাবাহিকতা আছে। আসলে ব্যাটসম্যানদের (আজ) জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু পারে নাই।’। এই জিনিসটাই আমাদের আসলে বের হয়ে আসতে হবে।
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল তাসকিনের হাত ধরেই।
জিম্বাবুয়ের প্রথম তিন উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে মাত্র ২৪ রানেই বিপদে ফেলেছিলেন তিনি। এরপর জিম্বাবুয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে ২৭২ রানের পুঁজি গড়ে। এই পিচে ব্যাটিং করা অসম্ভব ছিল না বলে মনে করেন তাসকিন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পিচের আচরণ অনুযায়ী জিম্বাবুয়ের এই সংগ্রহটি অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল। প্রতিপক্ষ বোলারদের মোকাবিলায় যে খুব বেশি কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা-ও কিন্তু নয়। ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা জিম্বাবুয়ে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে খেলেছে পুরো ৫০ ওভার। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অন্তত ২৭০ অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল। ওদের কন্ডিশনে ওরা অস্ট্রেলিয়াকেও কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে নিয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় কোনো জুটির অভাব ছিল প্রকট। উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান ৪৭ রান তুললেও, এরপর আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারেনি দল। কেবল নবম উইকেটে তাসকিন ও রিশাদ হোসেন মিলে ২৬ বলে ৩২ রান যোগ করেন, যা ছিল দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। তাসকিনের মতে, ব্যাটিংয়ে অন্তত একটি ভালো জুটি হলে ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা দলটিকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। ৩০ পেরোনো আরেকটি জুটি হয়েছে কেবল নবম উইকেটে। তাঁর কথায়, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটাও জুটি গড়তে পারিনি। তাসকিনের ব্যাখ্যা, ‘ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে পারার ঘাটতিটা একটু বেশি।
দলের ব্যাটিংয়ের এই দুর্বলতা নতুন নয় বলে স্বীকার করেছেন তাসকিন। চাপের মুখে ভেঙে পড়ার প্রবণতা দূর করার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, স্কিলের ঘাটতি নেই, সমস্যাটা মূলত ম্যাচ পরিস্থিতির সঠিক উপলব্ধিতে। প্রতিটি ব্যাটসম্যানের সামর্থ্য থাকলেও দলগতভাবে চাপে পড়লে তারা দ্রুত খেই হারিয়ে ফেলে। বড় দল হয়ে উঠতে হলে এই মানসিক ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গাগুলোতে উন্নতির বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
তবে এখনো হাল ছাড়ছেন না এই পেসার। সামনে একটি ম্যাচ বাকি আছে এবং সেই ম্যাচটি জিতেই ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকতে চায় বাংলাদেশ। তাসকিন আশাবাদী, শেষ ম্যাচে ভুলগুলো শুধরে নিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়াবে এবং ভালোভাবে লড়াই করে ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হবে। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তে ব্যাটসম্যানরা তাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ম্যাচে ফেরার সামর্থ্য দেখাতে পারেন কি না। আমরা চাইব যে ভালোভাবে লড়াই করে ফিরে এসে যেন ফাইনাল খেলতে পারি।’।

























