চাঁদা তুলে খেলার মাঠের জমি কিনলেন টাঙ্গাইলের গ্রামবাসী
- আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বাসিন্দার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হয়েছে। গ্রামে কোনো নির্ধারিত খেলার মাঠ না থাকায় শিশু ও যুবকদের খেলাধুলার চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। ফসল কাটার পর ফাঁকা জমিতে সাময়িক খেলার সুযোগ মিললেও আবাদ শুরু হলে তা বন্ধ হয়ে যেত। এই সংকট নিরসনে গ্রামের প্রায় ৭ শতাধিক পরিবারের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজস্ব উদ্যোগে চাঁদা সংগ্রহ করেন। এই অর্থ দিয়ে সম্প্রতি খেলার মাঠের জন্য ৬০ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাদ্য বাজিয়ে গ্রামবাসী আনুষ্ঠানিকভাবে এই জমি বুঝে নেন, যা পুরো গ্রামে আনন্দের জোয়ার তৈরি করেছে। এখানে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি জনসংখ্যা। সেই থেকে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। এই গ্রামে গতকাল ছেলে–বুড়ো সবাই সারা দিন আনন্দে মেতেছিলেন। গ্রামের যুবকেরা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন অর্থদাতা ও প্রবীণ ব্যক্তিদের। একদিন এই মাঠকে কেন্দ্র করেই গ্রামের ক্রীড়াচর্চা হবে।’। আজ আমাদের স্বপ্নের মাঠ বাস্তবায়ন হলো।
এই মহতী উদ্যোগের নেপথ্যে ছিলেন গ্রামের বাসিন্দা এস এম ইকবাল মাহমুদ। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে স্থানীয় ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলমের সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গত ৮ সেপ্টেম্বর গ্রামবাসীকে নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা করা হয়। সেই সভায় সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে জমি কেনার পক্ষে সমর্থন জানান। খোরশেদ আলম, ইকবাল মাহমুদ ছাড়াও আজাহার শিকদার, সেলিম আল মামুন, মিজানুর রহমান, মজনু শিকদার, শফিকুল ইসলাম ও শুভ প্রামাণিকের মতো বিত্তবান ব্যক্তিরা বড় অঙ্কের অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেন। সাধারণ গ্রামবাসীরাও তাদের সাধ্যমতো ২০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দিয়ে এই স্বপ্নযাত্রায় শামিল হয়েছেন। গ্রামবাসী কেউ ২০০ টাকা, কেউ ৫০০ টাকা, কেউ ১ হাজার টাকা, কেউ কেউ তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী ২ হাজার, ৫ হাজার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেন।’। এ প্রস্তাবে উৎসাহ দেখান খোরশেদ আলম। পরে আমরা গ্রামের কয়েকজন বিত্তবান মানুষের সঙ্গে কথা বলি। গ্রামের সবার কাছেই জমি কেনার জন্য অর্থসহায়তা চাওয়া হয়।
জমি কেনার জন্য প্রতি শতাংশের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫২ হাজার টাকা। এর মধ্যে ইকবাল হোসেন সুজন নামের এক ব্যক্তি ১ শতাংশ জমি দান করেছেন। বৃহস্পতিবার উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে গ্রামবাসী মাঠের জমি বুঝে নেন। বর্তমানে কেনা ৬০ শতাংশ জমির পাশে আরও ৬০ শতাংশ জমি কেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন গ্রামবাসী। সর্বমোট ১২০ শতাংশ জমি হলে একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভালো মানের মাঠ তৈরি সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
স্থানীয় কিশোর হাবিবুল্লাহ সালমান ও রাব্বী জোহা জানায়, আগে বাড়ির আঙিনায় বা অন্যের ফসলি জমিতে খেলতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো। এখন নিজেদের মাঠ পাওয়ায় তারা সারা বছর খেলাধুলার সুযোগ পাবে। প্রবীণ আব্দুল মান্নান ব্যাপারীর মতে, মাঠটি তাদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার ফসল। এছাড়া মসজিদ কমিটির সভাপতি নজরুল শিকদারের ভাষ্যমতে, এই মাঠ যুব সমাজকে সুস্থ ধারার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করবে এবং মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখবে। অপর কিশোর রাব্বী জোহা বলে, ‘বাড়ির উঠানে খেলতে গেলে ফুটবলের আঘাতে ঘরের বেড়া ক্ষতি হতো।
মোনালিসা উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমির পরিচালক মোনালিসা মুন্নি এই উদ্যোগকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা ছাড়া গ্রামবাসীর এমন স্বাবলম্বী প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা। তার মতে, বাবুপুর গ্রামের এই দৃষ্টান্ত সারা দেশের অনেক গ্রামের মানুষের জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।


























