সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু দীপ পুলিশ হেফাজতে
- আপডেট সময় : ১০:৪৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পুলিশি পদক্ষেপ
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনায় তাহসিফের বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই দীপকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ। পিবিআই মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ। ঘটনার রাতে তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন এবং বের হয়েছিলেন, তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সেদিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে মুঠোফোনে বার্তা (ভয়েস মেসেজ) পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন, বাসায় ফিরছেন; কিন্তু আর ফেরেননি। তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলানোর পর আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান। দীপের সঙ্গে কথা বলে ফিরবেন জানিয়ে নিচে নামেন তাহসিফ। বারবার মায়ের ফোন পেয়ে তাহসিফ জানিয়েছিলেন ‘ফিরছি’, পরদিন তুরাগে ভাসছিল লাশ। সরকার তদন্ত করলে অপরাধীদের বের করতে পারবে।
ঘটনার সময়রেখা ও সিসিটিভি ফুটেজ
- মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে: সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় তাহসিফ ও দীপ পৃথক মোটরসাইকেলে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টের বাসা থেকে বেরিয়ে যান।
- রাত ১টা ৩৫ মিনিট: তাহসিফ তাঁর মায়ের কাছে ভয়েস মেসেজে জানান যে তিনি বাসায় ফিরছেন, তবে এরপর আর যোগাযোগ হয়নি।
- পরদিন বুধবার বিকেলে: তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে দীপ বাসায় এসে তাহসিফকে ডেকে নিয়ে যান। নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দীপকেই তাঁর সর্বশেষ সঙ্গী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তাহসিফ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় যে মোটরসাইকেলটি নিয়েছিলেন, সেটিরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই–বাছাই করা হবে।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও আইনগত প্রক্রিয়া
নিহত তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ। তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম সন্দেহ প্রকাশ করে করেছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি আত্মহত্যা নয় এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
এরপর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলে উত্তরায় জানাজা শেষে দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এবং পরবর্তীতে লাশ উদ্ধারের সাথে দীপের প্রকৃত ভূমিকা কী, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


























