ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিদ্ধ করতে চান নেতানিয়াহু, বিরোধীদের: হেরে গিয়ে নির্বাচন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৮:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিদেশি হস্তক্ষেপ ও নির্বাচনী অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

তাঁর লিকুদ পার্টির দাবি, কাতার ও তুরস্ক থেকে আরব দলগুলো অবৈধ তহবিল সংগ্রহ করেছে এবং আরব ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য ঘুষ দেওয়া হয়েছে। নেতানিয়াহু ও তাঁর দল এই পরিস্থিতিকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত ও রাজনৈতিক ভূমিকম্প হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, কোনো পক্ষই ১২০ আসনের নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে সক্ষম হয়নি। নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। নির্বাচনের সমীকরণ বদলে দিয়েছে আরব ভোটারদের রেকর্ড অংশগ্রহণ; জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম জোটের দখলে গেছে রেকর্ড ১৯টি আসন। বর্তমানে এই দুটি আরব দল সরকার গঠনের ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ামক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা এই পুরো বিতর্ককে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।

নেতানিয়াহুর অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটসহ আরব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। আইজেনকটের মতে, নির্বাচনের ফলাফলকে বিতর্কিত ও অবৈধ প্রমাণ করতে নেতানিয়াহু সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসার আগে আগাম কোনো মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি। তাঁদের মতে, নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর বৈধতা নষ্ট করতে চাইছেন। যাতে আইজেনকট তাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করতে না পারেন। তদন্তের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর আইজেনকট জানান, ঠিক কী ঘটেছে বা আদৌ কিছু ঘটেছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে জানিয়েছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘিত হওয়ার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধানের অনুরোধে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেইত একটি তদন্ত চালাচ্ছে। শিন বেইত অবশ্য স্পষ্ট করেছে যে, এই তদন্ত কোনোভাবেই আরব সম্প্রদায়ের বৈধ ভোটাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না।

কাতার ও তুরস্কের দিকে ইঙ্গিত করা অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিপজ্জনক বলে উড়িয়ে দিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দোহা জানিয়েছে, ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন। জয়েন্ট লিস্টের শরিক দল বালাদের চেয়ারম্যান সামি আবু শেহাদেহ বলেছেন, পরাজিত পক্ষ বর্ণবাদী অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফল পাল্টানোর চেষ্টা করছে। দোহার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে দেশটি।

নির্বাচনী প্রচারাভিযানের শুরু থেকেই নেতানিয়াহু আরব ভোটারদের নিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে আসছেন। নির্বাচনের দিন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, আরবদের ভোটদান ডানপন্থীদের অস্তিত্বের জন্য চরম জরুরি অবস্থা তৈরি করেছে। ভোটারদের প্রভাবিত করতে তিনি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আরব ভোটারদের কৃত্রিম ছবিও প্রচার করেছিলেন।

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে অনেক আরব ভোটার ইসরায়েলি নির্বাচন বর্জন করে আসছিলেন, কারণ তারা মনে করতেন এই ব্যবস্থায় তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। তবে এবার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যেই তারা বিপুলসংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁদের অনেকে নিজেদের ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিদ্ধ করতে চান নেতানিয়াহু, বিরোধীদের: হেরে গিয়ে নির্বাচন

আপডেট সময় : ০৭:০৮:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিদেশি হস্তক্ষেপ ও নির্বাচনী অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

তাঁর লিকুদ পার্টির দাবি, কাতার ও তুরস্ক থেকে আরব দলগুলো অবৈধ তহবিল সংগ্রহ করেছে এবং আরব ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য ঘুষ দেওয়া হয়েছে। নেতানিয়াহু ও তাঁর দল এই পরিস্থিতিকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত ও রাজনৈতিক ভূমিকম্প হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, কোনো পক্ষই ১২০ আসনের নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে সক্ষম হয়নি। নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। নির্বাচনের সমীকরণ বদলে দিয়েছে আরব ভোটারদের রেকর্ড অংশগ্রহণ; জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম জোটের দখলে গেছে রেকর্ড ১৯টি আসন। বর্তমানে এই দুটি আরব দল সরকার গঠনের ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ামক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা এই পুরো বিতর্ককে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।

নেতানিয়াহুর অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটসহ আরব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। আইজেনকটের মতে, নির্বাচনের ফলাফলকে বিতর্কিত ও অবৈধ প্রমাণ করতে নেতানিয়াহু সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসার আগে আগাম কোনো মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি। তাঁদের মতে, নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর বৈধতা নষ্ট করতে চাইছেন। যাতে আইজেনকট তাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করতে না পারেন। তদন্তের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর আইজেনকট জানান, ঠিক কী ঘটেছে বা আদৌ কিছু ঘটেছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে জানিয়েছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘিত হওয়ার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধানের অনুরোধে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেইত একটি তদন্ত চালাচ্ছে। শিন বেইত অবশ্য স্পষ্ট করেছে যে, এই তদন্ত কোনোভাবেই আরব সম্প্রদায়ের বৈধ ভোটাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না।

কাতার ও তুরস্কের দিকে ইঙ্গিত করা অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিপজ্জনক বলে উড়িয়ে দিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দোহা জানিয়েছে, ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন। জয়েন্ট লিস্টের শরিক দল বালাদের চেয়ারম্যান সামি আবু শেহাদেহ বলেছেন, পরাজিত পক্ষ বর্ণবাদী অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফল পাল্টানোর চেষ্টা করছে। দোহার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে দেশটি।

নির্বাচনী প্রচারাভিযানের শুরু থেকেই নেতানিয়াহু আরব ভোটারদের নিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে আসছেন। নির্বাচনের দিন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, আরবদের ভোটদান ডানপন্থীদের অস্তিত্বের জন্য চরম জরুরি অবস্থা তৈরি করেছে। ভোটারদের প্রভাবিত করতে তিনি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আরব ভোটারদের কৃত্রিম ছবিও প্রচার করেছিলেন।

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে অনেক আরব ভোটার ইসরায়েলি নির্বাচন বর্জন করে আসছিলেন, কারণ তারা মনে করতেন এই ব্যবস্থায় তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। তবে এবার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যেই তারা বিপুলসংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁদের অনেকে নিজেদের ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন।