গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে আহত শ্রমিকের মৃত্যু, অর্ধশত কারখানায় ছুটি
- আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভের সময় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখ (২১) মারা গেছেন। রাজধানীর উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত তৌফিক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ছয়ঘড়িয়া গ্রামের তবিবুর রহমান তবি খানের ছেলে। তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করছিলেন এবং স্থানীয় লায়লা গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন।
তৌফিকের পরিবারের ভাষ্যমতে, গত সোমবার নোমান গ্রুপের টেরিটোরি গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে তিনি ঘটনার ভিডিও করার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়ে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। সহকর্মী শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এদিকে ঘটনার সময় সেখানে পুলিশের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না বলে জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের ধাওয়ায় রাস্তা থেকে থানায় পুলিশ, পরে সেখানেও ঘেরাওয়ের চেষ্টা।
ঘটনাটি নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, কারখানা বন্ধের জন্য বহিরাগত কিছু ব্যক্তি চাপ সৃষ্টি করলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতেই এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের অর্ধশতাধিক তৈরি পোশাক কারখানায় গতকাল রাতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গাজীপুরে শ্রমিক–পুলিশ সংঘর্ষে আহত ৩০, ছুটি ৬০ কারখানায়। গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, ৫০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা।
কারখানা কর্তৃপক্ষের পৃথক নোটিশ অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানে এক দিন আবার কোথাও দুই থেকে তিন দিনের সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে কাশিমপুরের কটন ক্লাব (বিডি) লিমিটেড ও কটন ক্লাউড (বিডি) লিমিটেড যৌথভাবে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। তাদের নোটিশে বলা হয়েছে, মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার কারখানা বন্ধ থাকবে। তবে এ সময় নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে সব শিফট যথারীতি চালু হবে।
কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চন্দ্রা এলাকার লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এক দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। কারখানাটির মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সব শিফটে কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে। লিজ ফ্যাশন কারখানার কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শ্রমিকেরা টানা তিন দিনের বিরতি পাবেন এবং এতে পরিস্থিতি শান্ত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। ছুটির পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার প্রত্যাশা।
এছাড়া ভোগড়া এলাকার প্যানোরোমা অ্যাপারেলস লিমিটেড, কাশিমপুরের মিতালী ক্লাব ও জকি গার্মেন্টস তিন দিনের ছুটি দিয়েছে। কোনাবাড়ীর জরুর এলাকার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ, মনটেক্স ও ডিবিএল দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার এপেক্স হোল্ডিং লিমিটেড, ইকোটেক্স লিমিটেড, কোকোলা ফুড প্রোডাক্ট, সাদমা ফ্যাশন, হাইড্রোক্সাইড লিমিটেড ও ইন্টারস্টফসহ অর্ধশতাধিক কারখানা বিভিন্ন মেয়াদে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, কারখানা বন্ধের খবর পাওয়ার বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন। তবে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে কারখানাগুলো বন্ধ না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তাঁরা জানতে পেরেছেন। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।


























