ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

উন্নত ক্যারিয়ার গড়তে যে ১০ বিদেশি ভাষা শিখবেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যেকোনো কর্মক্ষেত্রে নিজেকে অনন্য করে তুলতে যোগাযোগের দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। এই দক্ষতার প্রধান ভিত্তি হলো ভাষা। যে সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হয়, তাদের ভাষায় কথা বলতে পারাটা একে অপরের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। বিশ্বায়নের এই যুগে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি একে অপরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, ফলে পেশাগত ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষার সক্ষমতা অর্জন করা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। কেবল একাডেমিক জ্ঞান নয়, বরং নির্দিষ্ট বিদেশি ভাষায় দক্ষতা ক্যারিয়ারের পথে অনেক নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করতে পারে। পারস্পরিক যোগাযোগের দক্ষতা শিক্ষা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে প্রত্যাশিত বিষয়। কেননা কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের কাছাকাছি পৌঁছার সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো তাদের মানুষগুলো যে ভাষায় কথা বলে, তাদের সঙ্গে সে ভাষাতেই কথা বলা। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিনা দ্বিধায় বিচরণের জন্য বিদেশি ভাষা শিক্ষা উৎকৃষ্ট হাতিয়ার। বিশ্বায়নের গতিশীলতায় বহুজাতি সংস্কৃতিগুলো পরস্পরের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সম্প্রদায়গুলো অভ্যস্ত হয়ে উঠছে একে অপরের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগে। নিয়োগকর্তারা এমন লোক খোঁজেন, যাঁরা বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তেমনি কয়েকটি প্রয়োজনীয় বিদেশি ভাষার কথা নিয়ে আজকের আয়োজন। উৎপাদন ও রপ্তানিশিল্পে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগের উদ্ভব হওয়ায় মান্দারিনে দক্ষতার চাহিদা বেড়েছে। সুতরাং গেজেট–সম্পর্কিত যেকোনো ব্যবসার জন্য জাপানিজ ভাষা শেখা অবধারিত। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে জার্মান শেখার বিস্তর সুযোগের সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা: ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম হতে পারে আয়ের পথ।

১. মান্দারিন: গত দুই দশকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে মান্দারিন বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভাষায় পরিণত হয়েছে। চীন ও তাইওয়ানের ৮১০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের মাতৃভাষা এটি। উৎপাদন, রপ্তানি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফিন্যান্সের মতো খাতে ক্যারিয়ার গড়তে মান্দারিন জানা থাকলে সিভিতে বাড়তি গুরুত্ব পাওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে এই ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে।

২. জাপানিজ: প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও ইলেকট্রনিকস শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে জাপানের অবস্থান বিশ্বে শীর্ষে। ১২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ জাপানি ভাষায় কথা বলেন। রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা লজিস্টিকস খাতের চাকরির জন্য এ ভাষা বেশ কার্যকর। এ ছাড়া অন্যান্য অভাবনীয় শিল্পের মধ্যে আছে ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিন্যান্স ও লজিস্টিকস। এ ছাড়া বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান চীনা ভাষা শেখায়। তুরস্ক ছাড়াও তুর্কিভাষী আছে বলকান, ককেশাস ও পশ্চিম ইউরোপে।

৩. জার্মান: ইউরোপের অর্থনীতিতে চতুর্থ বৃহত্তম অবস্থানে থাকা জার্মানির ভাষা প্রায় ১০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের। জার্মানি ছাড়াও অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মতো দেশে জার্মান ভাষাভাষীদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ফার্মাসিউটিক্যালস বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য এই ভাষা শিখে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। ইউরোপকেন্দ্রিক ক্যারিয়ারে সাফল্যের চাবিকাঠি হচ্ছে জার্মান ভাষা শেখা। তুর্কি অভিবাসীদের বৃহত্তম অংশটি বাস করেন জার্মানিতে, যেখানে জার্মানির পর তুর্কি দ্বিতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা।

৪. তুর্কি: বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি সর্বাধিক প্রচলিত ভাষার তালিকায় থাকা তুর্কি ভাষা প্রায় ৭৭ মিলিয়ন মানুষের মাতৃভাষা। সাইবার নিরাপত্তা, এনার্জি ও কূটনীতির মতো বৈচিত্র্যময় পেশায় তুর্কি ভাষায় দক্ষদের জন্য রয়েছে প্রচুর ফেলোশিপ ও নিয়োগের সুযোগ।

৫. স্প্যানিশ: প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন স্থানীয় ভাষাভাষীর স্প্যানিশ ভাষাটি ২১টি দেশের সরকারি ভাষা। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে ব্যাংকিং, মিডিয়া এবং বিপণন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে এটি একটি শক্তিশালী মাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ নিয়োগকর্তা স্প্যানিশ জানাকে বিশেষ প্রাধান্য দেন।

৬. কোরিয়ান: প্রযুক্তিনির্ভর কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক দেশ। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী শিল্পের প্রসারের কারণে সেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চাহিদা বাড়ছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রভাব ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সুবাদে কোরিয়ান শেখা এখন সময়ের দাবি। উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ বিশ্ব নেতাদের চিহ্নিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাই করে বিভিন্নভাবে।

৭. ফরাসি: আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্বরাজনীতির অন্যতম ভাষা হলো ফরাসি। ২৯টি দেশের প্রায় ২২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের ব্যবহৃত এই ভাষাটি জাতিসংঘ ও ন্যাটোর মতো সংস্থার আনুষ্ঠানিক মাধ্যম। আফ্রিকা ও কানাডায় কাজের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ফরাসি ভাষা দারুণ সহায়ক। এ ছাড়া ভাষাটি ইন্দোনেশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, মঙ্গোলিয়া ও ফিলিপাইনেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, হল্যান্ড, লিচেনস্টাইন, লুক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ডেও ব্যাপকভাবে জার্মান বলা হয়। পাবলিক খাতে কর্মজীবনে আগ্রহীদের জন্য কূটনীতি, বুদ্ধিমত্তা ও সামরিক ক্ষেত্রগুলোতে সক্রিয়ভাবে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

৮. আরবি: মধ্যপ্রাচ্যের তৈল ও জ্বালানি খাতে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আরবি ভাষা অপরিহার্য। বিশ্বের ২৭টি দেশে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন। উন্নত ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে ইংরেজির পাশাপাশি আরবি জানা কর্মক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেয়।

৯. ইতালিয়ান: বিশ্বের প্রায় ৬৫ মিলিয়ন মানুষের মাতৃভাষা ইতালিয়ান। ফ্যাশন, ডিজাইন, চারুকলা ও বিলাসবহুল অটোমোবাইল ব্র্যান্ডে ক্যারিয়ার গড়তে এই ভাষা অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া ভ্যাটিকান বা সংস্কৃতিবিষয়ক পেশায় সফল হতে এটি সেরা পছন্দ।

১০. রাশিয়ান: রাশিয়ার ক্রমবিকশিত অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতের প্রসার ঘটছে। প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন। প্রযুক্তিবিদ বা বিজ্ঞানীরা ক্যারিয়ারের প্রসারে রাশিয়ান ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উন্নত ক্যারিয়ার গড়তে যে ১০ বিদেশি ভাষা শিখবেন

আপডেট সময় : ০৮:৩২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যেকোনো কর্মক্ষেত্রে নিজেকে অনন্য করে তুলতে যোগাযোগের দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। এই দক্ষতার প্রধান ভিত্তি হলো ভাষা। যে সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হয়, তাদের ভাষায় কথা বলতে পারাটা একে অপরের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। বিশ্বায়নের এই যুগে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি একে অপরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, ফলে পেশাগত ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষার সক্ষমতা অর্জন করা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। কেবল একাডেমিক জ্ঞান নয়, বরং নির্দিষ্ট বিদেশি ভাষায় দক্ষতা ক্যারিয়ারের পথে অনেক নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করতে পারে। পারস্পরিক যোগাযোগের দক্ষতা শিক্ষা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে প্রত্যাশিত বিষয়। কেননা কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের কাছাকাছি পৌঁছার সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো তাদের মানুষগুলো যে ভাষায় কথা বলে, তাদের সঙ্গে সে ভাষাতেই কথা বলা। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিনা দ্বিধায় বিচরণের জন্য বিদেশি ভাষা শিক্ষা উৎকৃষ্ট হাতিয়ার। বিশ্বায়নের গতিশীলতায় বহুজাতি সংস্কৃতিগুলো পরস্পরের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সম্প্রদায়গুলো অভ্যস্ত হয়ে উঠছে একে অপরের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগে। নিয়োগকর্তারা এমন লোক খোঁজেন, যাঁরা বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তেমনি কয়েকটি প্রয়োজনীয় বিদেশি ভাষার কথা নিয়ে আজকের আয়োজন। উৎপাদন ও রপ্তানিশিল্পে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগের উদ্ভব হওয়ায় মান্দারিনে দক্ষতার চাহিদা বেড়েছে। সুতরাং গেজেট–সম্পর্কিত যেকোনো ব্যবসার জন্য জাপানিজ ভাষা শেখা অবধারিত। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে জার্মান শেখার বিস্তর সুযোগের সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা: ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম হতে পারে আয়ের পথ।

১. মান্দারিন: গত দুই দশকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে মান্দারিন বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভাষায় পরিণত হয়েছে। চীন ও তাইওয়ানের ৮১০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের মাতৃভাষা এটি। উৎপাদন, রপ্তানি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফিন্যান্সের মতো খাতে ক্যারিয়ার গড়তে মান্দারিন জানা থাকলে সিভিতে বাড়তি গুরুত্ব পাওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে এই ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে।

২. জাপানিজ: প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও ইলেকট্রনিকস শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে জাপানের অবস্থান বিশ্বে শীর্ষে। ১২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ জাপানি ভাষায় কথা বলেন। রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা লজিস্টিকস খাতের চাকরির জন্য এ ভাষা বেশ কার্যকর। এ ছাড়া অন্যান্য অভাবনীয় শিল্পের মধ্যে আছে ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিন্যান্স ও লজিস্টিকস। এ ছাড়া বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান চীনা ভাষা শেখায়। তুরস্ক ছাড়াও তুর্কিভাষী আছে বলকান, ককেশাস ও পশ্চিম ইউরোপে।

৩. জার্মান: ইউরোপের অর্থনীতিতে চতুর্থ বৃহত্তম অবস্থানে থাকা জার্মানির ভাষা প্রায় ১০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের। জার্মানি ছাড়াও অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মতো দেশে জার্মান ভাষাভাষীদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ফার্মাসিউটিক্যালস বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য এই ভাষা শিখে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। ইউরোপকেন্দ্রিক ক্যারিয়ারে সাফল্যের চাবিকাঠি হচ্ছে জার্মান ভাষা শেখা। তুর্কি অভিবাসীদের বৃহত্তম অংশটি বাস করেন জার্মানিতে, যেখানে জার্মানির পর তুর্কি দ্বিতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা।

৪. তুর্কি: বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি সর্বাধিক প্রচলিত ভাষার তালিকায় থাকা তুর্কি ভাষা প্রায় ৭৭ মিলিয়ন মানুষের মাতৃভাষা। সাইবার নিরাপত্তা, এনার্জি ও কূটনীতির মতো বৈচিত্র্যময় পেশায় তুর্কি ভাষায় দক্ষদের জন্য রয়েছে প্রচুর ফেলোশিপ ও নিয়োগের সুযোগ।

৫. স্প্যানিশ: প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন স্থানীয় ভাষাভাষীর স্প্যানিশ ভাষাটি ২১টি দেশের সরকারি ভাষা। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে ব্যাংকিং, মিডিয়া এবং বিপণন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে এটি একটি শক্তিশালী মাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ নিয়োগকর্তা স্প্যানিশ জানাকে বিশেষ প্রাধান্য দেন।

৬. কোরিয়ান: প্রযুক্তিনির্ভর কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক দেশ। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী শিল্পের প্রসারের কারণে সেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চাহিদা বাড়ছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রভাব ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সুবাদে কোরিয়ান শেখা এখন সময়ের দাবি। উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ বিশ্ব নেতাদের চিহ্নিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাই করে বিভিন্নভাবে।

৭. ফরাসি: আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্বরাজনীতির অন্যতম ভাষা হলো ফরাসি। ২৯টি দেশের প্রায় ২২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের ব্যবহৃত এই ভাষাটি জাতিসংঘ ও ন্যাটোর মতো সংস্থার আনুষ্ঠানিক মাধ্যম। আফ্রিকা ও কানাডায় কাজের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ফরাসি ভাষা দারুণ সহায়ক। এ ছাড়া ভাষাটি ইন্দোনেশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, মঙ্গোলিয়া ও ফিলিপাইনেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, হল্যান্ড, লিচেনস্টাইন, লুক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ডেও ব্যাপকভাবে জার্মান বলা হয়। পাবলিক খাতে কর্মজীবনে আগ্রহীদের জন্য কূটনীতি, বুদ্ধিমত্তা ও সামরিক ক্ষেত্রগুলোতে সক্রিয়ভাবে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

৮. আরবি: মধ্যপ্রাচ্যের তৈল ও জ্বালানি খাতে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আরবি ভাষা অপরিহার্য। বিশ্বের ২৭টি দেশে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন। উন্নত ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে ইংরেজির পাশাপাশি আরবি জানা কর্মক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেয়।

৯. ইতালিয়ান: বিশ্বের প্রায় ৬৫ মিলিয়ন মানুষের মাতৃভাষা ইতালিয়ান। ফ্যাশন, ডিজাইন, চারুকলা ও বিলাসবহুল অটোমোবাইল ব্র্যান্ডে ক্যারিয়ার গড়তে এই ভাষা অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া ভ্যাটিকান বা সংস্কৃতিবিষয়ক পেশায় সফল হতে এটি সেরা পছন্দ।

১০. রাশিয়ান: রাশিয়ার ক্রমবিকশিত অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতের প্রসার ঘটছে। প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন। প্রযুক্তিবিদ বা বিজ্ঞানীরা ক্যারিয়ারের প্রসারে রাশিয়ান ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।