ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

এপস্টেইনের কাছে গোপন তথ্য ফাঁস, যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৮:২৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাজ্যের সাবেক লেবার মন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে থেকে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে দেশটির মেট্রোপলিটন পুলিশ। মার্কিন অর্থ দপ্তর (ডিওজে) প্রকাশিত নথির ভিত্তিতে এ তদন্ত শুরু হয়।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) থেকে কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সরকারের ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী থাকাকালে ম্যান্ডেলসন বাজার-সংবেদনশীল সরকারি তথ্য এপস্টেইনের কাছে পাঠিয়েছিলেন।পিটার ম্যান্ডেলসন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বিবিসি জানিয়েছে, তার অবস্থান হলো- তিনি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াননি এবং কোনো আর্থিক লাভের উদ্দেশেও এসব করেননি। সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, ‘পুলিশ যে সহায়তা বা তথ্য চাইবে, সরকার তা দিতে প্রস্তুত।’গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে অপসারিত ম্যান্ডেলসন জানিয়েছেন, তিনি বুধবার হাউস অব লর্ডস থেকে পদত্যাগ করবেন। তবে পদত্যাগ করলেও তার লাইফ পিয়ারেজ থাকবে। অর্থাৎ সংসদের আইন ছাড়া বাতিল করা সম্ভব নয়।

সোমবার স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি ও রিফর্ম ইউকে ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে অভিযোগ জমা দেয়। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য সরকারও ইমেইলগুলো পর্যালোচনা করে বিষয়টি পুলিশের কাছে পাঠায়। ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, প্রাথমিক পর্যালোচনায় ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট সংশ্লিষ্ট “সম্ভাব্য বাজার-সংবেদনশীল তথ্য” পাওয়া গেছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন জানিয়েছেন, তিনি মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্যার মার্ক রাউলিকে চিঠি দিয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের কথিত যোগাযোগ ছিল “অমার্জনীয় ও দেশবিরোধী কাজ”, যখন সরকার ও দেশ বৈশ্বিক আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ব্যস্ত ছিল।

ডিওজে প্রকাশিত নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০০৮ সালে ইউরো বাঁচাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫০০ বিলিয়ন পাউন্ড বেইলআউট পরিকল্পনার আগাম তথ্য এপস্টেইনকে জানিয়েছিলেন ম্যান্ডেলসন। ২০০৩ ও ২০০৪ সালে এপস্টেইন তিন দফায় মোট ৭৫ হাজার ডলার ম্যান্ডেলসনকে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০০৯ সালে এপস্টেইন ম্যান্ডেলসনের সঙ্গী রেইনালদো আভিলা দা সিলভাকে ১০ হাজার পাউন্ড পাঠান।

রোববার দেয়া এক বিবৃতিতে ম্যান্ডেলসন জানান, তিনি লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য তিনি ভুক্তভোগীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগগুলো তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেন, ম্যান্ডেলসন দেশকে হতাশ করেছেন এবং ইমেইল স্পর্শকাতর তথ্য পাঠানোর অভিযোগ “লজ্জাজনক”।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এপস্টেইনের কাছে গোপন তথ্য ফাঁস, যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

আপডেট সময় : ০৮:২৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাজ্যের সাবেক লেবার মন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে থেকে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে দেশটির মেট্রোপলিটন পুলিশ। মার্কিন অর্থ দপ্তর (ডিওজে) প্রকাশিত নথির ভিত্তিতে এ তদন্ত শুরু হয়।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) থেকে কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সরকারের ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী থাকাকালে ম্যান্ডেলসন বাজার-সংবেদনশীল সরকারি তথ্য এপস্টেইনের কাছে পাঠিয়েছিলেন।পিটার ম্যান্ডেলসন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বিবিসি জানিয়েছে, তার অবস্থান হলো- তিনি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াননি এবং কোনো আর্থিক লাভের উদ্দেশেও এসব করেননি। সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, ‘পুলিশ যে সহায়তা বা তথ্য চাইবে, সরকার তা দিতে প্রস্তুত।’গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে অপসারিত ম্যান্ডেলসন জানিয়েছেন, তিনি বুধবার হাউস অব লর্ডস থেকে পদত্যাগ করবেন। তবে পদত্যাগ করলেও তার লাইফ পিয়ারেজ থাকবে। অর্থাৎ সংসদের আইন ছাড়া বাতিল করা সম্ভব নয়।

সোমবার স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি ও রিফর্ম ইউকে ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে অভিযোগ জমা দেয়। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য সরকারও ইমেইলগুলো পর্যালোচনা করে বিষয়টি পুলিশের কাছে পাঠায়। ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, প্রাথমিক পর্যালোচনায় ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট সংশ্লিষ্ট “সম্ভাব্য বাজার-সংবেদনশীল তথ্য” পাওয়া গেছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন জানিয়েছেন, তিনি মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্যার মার্ক রাউলিকে চিঠি দিয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের কথিত যোগাযোগ ছিল “অমার্জনীয় ও দেশবিরোধী কাজ”, যখন সরকার ও দেশ বৈশ্বিক আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ব্যস্ত ছিল।

ডিওজে প্রকাশিত নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০০৮ সালে ইউরো বাঁচাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫০০ বিলিয়ন পাউন্ড বেইলআউট পরিকল্পনার আগাম তথ্য এপস্টেইনকে জানিয়েছিলেন ম্যান্ডেলসন। ২০০৩ ও ২০০৪ সালে এপস্টেইন তিন দফায় মোট ৭৫ হাজার ডলার ম্যান্ডেলসনকে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০০৯ সালে এপস্টেইন ম্যান্ডেলসনের সঙ্গী রেইনালদো আভিলা দা সিলভাকে ১০ হাজার পাউন্ড পাঠান।

রোববার দেয়া এক বিবৃতিতে ম্যান্ডেলসন জানান, তিনি লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য তিনি ভুক্তভোগীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগগুলো তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেন, ম্যান্ডেলসন দেশকে হতাশ করেছেন এবং ইমেইল স্পর্শকাতর তথ্য পাঠানোর অভিযোগ “লজ্জাজনক”।