ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ভাঙা ল্যাপটপ নিয়ে শুরু, ফ্রিল্যান্সিংয়ে মিতুর অদম্য জয়যাত্রা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের বেজগাঁওয়ের মিতু আক্তারের জীবনের গল্পটি সংগ্রামের এক অনন্য উদাহরণ। বাবা মো. আবুল হোসেন শেখ ছিলেন সার্ভেয়ার এবং মা শিউলি বেগম গৃহিণী। তিন ভাই ও এক বোনের সংসারে মিতুর বেড়ে ওঠা। ২০১৬ সালের নভেম্বরে বিয়ের পর ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর তিনি পুত্রসন্তান সাফাত নূর আলিফকে জন্ম দেন। তবে ২০১৯ সালে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে এবং বিবাহবিচ্ছেদের মুখোমুখি হতে হয়। উচ্চশিক্ষার সনদ না থাকা এবং সামাজিক প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে লড়াই শুরু করেন। আমাদের সমাজে অনেক নারীই প্রতিনিয়ত নীরবে লড়াই করে যান। নদীর তীরের শান্ত স্নিগ্ধ এক জনপদ মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, আর সেখানকারই একটি চেনা গ্রাম বেজগাঁও। আর মা শিউলি বেগম ছিলেন পুরো পরিবারের মায়াবী ছায়া। সময়ের পালাবদলে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর কোলজুড়ে আসে এক নতুন আলো—একমাত্র পুত্রসন্তান, সাফাত নূর আলিফ। ভাই-বোনদের আদুরে স্নেহে আর মা-বাবার ছায়ায় এভাবেই কেটেছিল তাঁর শৈশব ও কৈশোর। পারিবারিক টানাপোড়েন এবং একপর্যায়ে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। মিতু আবারও গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হন।

নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মিতু ঘরে বসেই ইন্টারনেটে কাজের খোঁজ করতে থাকেন। ২০২০ সালের শেষ দিকে বড় ভাইয়ের একটি পুরোনো ভাঙা ল্যাপটপ ধার নিয়ে তিনি গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ শেখার চেষ্টা করেন, কিন্তু শ্বশুরবাড়ি থেকে আনার পথে সেটি নষ্ট হয়ে যায়। চরম হতাশায় নিপতিত মিতু উপায়ান্তর না দেখে মাকে ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সের কথা জানান। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে মা নিজের কানের দুল বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে দেন। মিতু জানান, সেদিন মা তাঁর পাশে ঢাল হয়ে না দাঁড়ালে আজকের এই অবস্থানে আসা অসম্ভব ছিল। জীবনের নানা ঝড়ে যাঁর তরি প্রায় ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, কিন্তু তিনি হার না মেনে নিজের মেধা, পরিশ্রম ও সাহসিকতায় লিখেছেন এক নতুন বিজয়ের উপাখ্যান। মাকে বোঝালাম যে আমাকে কোনোভাবে টাকার ব্যবস্থা করে দিলে আমি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি কোর্স করব। মা আমার কথায় কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজের কানের দুল বিক্রি করে দিলেন। সেই টাকা আমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন, ‘যেদিন আয় করবে, সেদিন আমাকে আবার বানিয়ে দিয়ো।

এরপর ক্রিয়েটিভ আইটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ভর্তি হয়ে এসইও ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে দক্ষ হয়ে ওঠেন মিতু। অভাব আর ল্যাপটপের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি হাল ছাড়েননি। আউটসোর্সিং ওয়েবসাইট ফাইভআরে এক ইতালীয় গ্রাহকের কাছ থেকে ১২০ ডলারের প্রথম কাজ পাওয়ার পর তাঁর পথচলা শুরু হয়। ক্রমান্বয়ে তিনি ফাইভআরে লেভেল ২ এবং আপওয়ার্কে টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজের পরিচয় গড়েন। কাজের মান বজায় রাখতে তিনি গঠন করেন ‘বি মার্কেটিং এজেন্সি’। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে রিমোটলি কাজ করছেন প্রায় ১০ জন তরুণ-তরুণী। শূন্য থেকে শুরু করে আজ তিনি কেবল নিজের ভাগ্যই বদলাননি, হয়ে উঠেছেন আরও ১০ জন তরুণ–তরুণীর অনুপ্রেরণা। পরবর্তী সময়ে আগ্রহের জায়গা থেকে এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) ও ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।

মিতুর স্বপ্নসাধ কেবল পেশার গণ্ডিতে আটকে থাকেনি। সংসারে দায়বদ্ধতার মাঝেও তিনি ২০২৩ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই স্নাতক (বিবিএ) করছেন। নিজের উপার্জন দিয়ে তিনি স্কুটি কিনেছেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করেছেন এবং মায়ের বিক্রি করা সেই কানের দুল পুনরায় বানিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, বিয়ের পর বাবার বাড়িতে না উঠে নিজে বাসা ভাড়া নিয়ে আত্মসম্মান বজায় রেখেছেন এবং নিজের জমানো টাকায় জমি কিনেছেন, যেখানে শিগগিরই নিজের বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

নিজের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে মিতু উল্লেখ করেন যে, একসময় কাজের সূত্রে প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন এবং চারপাশ থেকে শুনতে হয়েছিল ‘তুমি পারবে না’। আজ তিনি নিজেই নিজের ঠিকানা তৈরি করেছেন। তাঁর মতে, পর্দা কোনো বাধা নয় বরং সঠিক ধৈর্য ও অনুশীলনের মাধ্যমে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনের কার্যকর ব্যবহার শিখে যে কেউ পেশাগতভাবে এগিয়ে যেতে পারে বলে তিনি তরুণদের পরামর্শ দেন। পরিবার, সমাজ কিংবা জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতি কোনো কিছুই মানুষের স্বপ্ন ও ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারে না—যদি থাকে ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য জেদ। মানুষের জমির মাপজোখ আর হিসাব-নিকাশ করেই তাঁর সারা দিন কাটত।

এখন মিতু নিজের সাফল্যের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে যেসব নারী পারিবারিক ও সামাজিক বাধার কারণে বাইরে কাজ করতে দ্বিধাবোধ করেন, তাঁদের মৌলিক ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা শেখানোর জন্য তিনি একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই—আরও বেশি নারীকে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী করে তোলা। তেমনই এক সংগ্রামী নারী মিতু আক্তার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভাঙা ল্যাপটপ নিয়ে শুরু, ফ্রিল্যান্সিংয়ে মিতুর অদম্য জয়যাত্রা

আপডেট সময় : ০৩:৩২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের বেজগাঁওয়ের মিতু আক্তারের জীবনের গল্পটি সংগ্রামের এক অনন্য উদাহরণ। বাবা মো. আবুল হোসেন শেখ ছিলেন সার্ভেয়ার এবং মা শিউলি বেগম গৃহিণী। তিন ভাই ও এক বোনের সংসারে মিতুর বেড়ে ওঠা। ২০১৬ সালের নভেম্বরে বিয়ের পর ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর তিনি পুত্রসন্তান সাফাত নূর আলিফকে জন্ম দেন। তবে ২০১৯ সালে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে এবং বিবাহবিচ্ছেদের মুখোমুখি হতে হয়। উচ্চশিক্ষার সনদ না থাকা এবং সামাজিক প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে লড়াই শুরু করেন। আমাদের সমাজে অনেক নারীই প্রতিনিয়ত নীরবে লড়াই করে যান। নদীর তীরের শান্ত স্নিগ্ধ এক জনপদ মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, আর সেখানকারই একটি চেনা গ্রাম বেজগাঁও। আর মা শিউলি বেগম ছিলেন পুরো পরিবারের মায়াবী ছায়া। সময়ের পালাবদলে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর কোলজুড়ে আসে এক নতুন আলো—একমাত্র পুত্রসন্তান, সাফাত নূর আলিফ। ভাই-বোনদের আদুরে স্নেহে আর মা-বাবার ছায়ায় এভাবেই কেটেছিল তাঁর শৈশব ও কৈশোর। পারিবারিক টানাপোড়েন এবং একপর্যায়ে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। মিতু আবারও গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হন।

নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মিতু ঘরে বসেই ইন্টারনেটে কাজের খোঁজ করতে থাকেন। ২০২০ সালের শেষ দিকে বড় ভাইয়ের একটি পুরোনো ভাঙা ল্যাপটপ ধার নিয়ে তিনি গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ শেখার চেষ্টা করেন, কিন্তু শ্বশুরবাড়ি থেকে আনার পথে সেটি নষ্ট হয়ে যায়। চরম হতাশায় নিপতিত মিতু উপায়ান্তর না দেখে মাকে ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সের কথা জানান। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে মা নিজের কানের দুল বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে দেন। মিতু জানান, সেদিন মা তাঁর পাশে ঢাল হয়ে না দাঁড়ালে আজকের এই অবস্থানে আসা অসম্ভব ছিল। জীবনের নানা ঝড়ে যাঁর তরি প্রায় ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, কিন্তু তিনি হার না মেনে নিজের মেধা, পরিশ্রম ও সাহসিকতায় লিখেছেন এক নতুন বিজয়ের উপাখ্যান। মাকে বোঝালাম যে আমাকে কোনোভাবে টাকার ব্যবস্থা করে দিলে আমি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি কোর্স করব। মা আমার কথায় কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজের কানের দুল বিক্রি করে দিলেন। সেই টাকা আমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন, ‘যেদিন আয় করবে, সেদিন আমাকে আবার বানিয়ে দিয়ো।

এরপর ক্রিয়েটিভ আইটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ভর্তি হয়ে এসইও ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে দক্ষ হয়ে ওঠেন মিতু। অভাব আর ল্যাপটপের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি হাল ছাড়েননি। আউটসোর্সিং ওয়েবসাইট ফাইভআরে এক ইতালীয় গ্রাহকের কাছ থেকে ১২০ ডলারের প্রথম কাজ পাওয়ার পর তাঁর পথচলা শুরু হয়। ক্রমান্বয়ে তিনি ফাইভআরে লেভেল ২ এবং আপওয়ার্কে টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজের পরিচয় গড়েন। কাজের মান বজায় রাখতে তিনি গঠন করেন ‘বি মার্কেটিং এজেন্সি’। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে রিমোটলি কাজ করছেন প্রায় ১০ জন তরুণ-তরুণী। শূন্য থেকে শুরু করে আজ তিনি কেবল নিজের ভাগ্যই বদলাননি, হয়ে উঠেছেন আরও ১০ জন তরুণ–তরুণীর অনুপ্রেরণা। পরবর্তী সময়ে আগ্রহের জায়গা থেকে এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) ও ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।

মিতুর স্বপ্নসাধ কেবল পেশার গণ্ডিতে আটকে থাকেনি। সংসারে দায়বদ্ধতার মাঝেও তিনি ২০২৩ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই স্নাতক (বিবিএ) করছেন। নিজের উপার্জন দিয়ে তিনি স্কুটি কিনেছেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করেছেন এবং মায়ের বিক্রি করা সেই কানের দুল পুনরায় বানিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, বিয়ের পর বাবার বাড়িতে না উঠে নিজে বাসা ভাড়া নিয়ে আত্মসম্মান বজায় রেখেছেন এবং নিজের জমানো টাকায় জমি কিনেছেন, যেখানে শিগগিরই নিজের বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

নিজের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে মিতু উল্লেখ করেন যে, একসময় কাজের সূত্রে প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন এবং চারপাশ থেকে শুনতে হয়েছিল ‘তুমি পারবে না’। আজ তিনি নিজেই নিজের ঠিকানা তৈরি করেছেন। তাঁর মতে, পর্দা কোনো বাধা নয় বরং সঠিক ধৈর্য ও অনুশীলনের মাধ্যমে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনের কার্যকর ব্যবহার শিখে যে কেউ পেশাগতভাবে এগিয়ে যেতে পারে বলে তিনি তরুণদের পরামর্শ দেন। পরিবার, সমাজ কিংবা জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতি কোনো কিছুই মানুষের স্বপ্ন ও ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারে না—যদি থাকে ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য জেদ। মানুষের জমির মাপজোখ আর হিসাব-নিকাশ করেই তাঁর সারা দিন কাটত।

এখন মিতু নিজের সাফল্যের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে যেসব নারী পারিবারিক ও সামাজিক বাধার কারণে বাইরে কাজ করতে দ্বিধাবোধ করেন, তাঁদের মৌলিক ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা শেখানোর জন্য তিনি একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই—আরও বেশি নারীকে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী করে তোলা। তেমনই এক সংগ্রামী নারী মিতু আক্তার।