জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের টানাপোড়েন, আসন সমঝোতায় হোঁচট!
- আপডেট সময় : ০৪:৩১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৩০০ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচনী ময়দানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দিলেও আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েনে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ১১ দলীয় জোট। শরিকদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত সময়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছে জোটটি। বড় দুই শরিকের মধ্যে ‘একক সিদ্ধান্ত’ নেয়ার প্রবণতা ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে তৈরি হয়েছে দূরত্ব।সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আসন সমঝোতার একটি চূড়ান্ত রূপরেখা পাওয়া যাবে। তবে মঙ্গলবার দিনভর দফায় দফায় বৈঠকের পরও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে নতুন কয়েকটি দল জোটে যুক্ত হওয়া এবং আসন সংখ্যা নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের বিপরীতমুখী অবস্থানেই এই জটিলতা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্ব জামায়াতকে ইঙ্গিত করে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘অ্যালায়েন্সের ভেতর থেকে যদি কেউ একা সিদ্ধান্ত নেয়, তবে অন্য শরিকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।’
আরও পড়ুন: ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির লেজ নয়, কান ধরে টান দেবো: জামায়াতের আমির
তিনি জানান, তাদের নির্বাচনী ফোরামের জরিপ অনুযায়ী তারা ১০০ থেকে ১৩০টি আসনের দাবি রাখে এবং তারা একটি ‘সম্মানজনক’ সংখ্যা প্রত্যাশা করছে।
অন্যদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে দূরত্ব তৈরির খবর অস্বীকার করা হয়েছে। জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘দলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আসনের মধ্যে সমন্বয় করতে আমাদের বারবার কাজ করতে হচ্ছে। এটি কোনো অসন্তোষ নয়; বরং প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে সামঞ্জস্য আনার প্রক্রিয়া মাত্র। শিগগিরই সমন্বিত তালিকা প্রকাশ করা হবে।’
সূত্রমতে, জামায়াতে ইসলামী মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ১৮০ থেকে ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রাখতে চায় এবং বাকিগুলো অন্য শরিকদের ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই সংখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। তারা মনে করছে, তৃণমূলের শক্তিমত্তা অনুযায়ী তাদের আসন সংখ্যা আরও বেশি হওয়া উচিত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দলও এই জোটের সমঝোতারঅগ্রগতির দিকে কড়া নজর রাখছে। তবে শেষ পর্যন্ত শরিকদের মান-অভিমান ছাপিয়ে ১১ দলীয় জোট একক প্রার্থী তালিকা নিয়ে মাঠে নামতে পারবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়ছে।


























