মেঘনায় গুলিবিদ্ধ জেলের মৃত্যু: ২৪ ঘণ্টা পরও মামলা হয়নি
- আপডেট সময় : ১২:৫৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আক্তার হোসেন হাওলাদার (৪০) নামের এক জেলের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। ঘটনাটি ঘটার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলাইমান হোসেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
নিহত আক্তার হোসেন হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চর মেমানিয়া গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে স্থানীয় ওরাকুল ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সঙ্গী জেলে আবদুল ব্যাপারী জানান, ভোরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে তাঁরা যখন নৌকা কিনারের দিকে নিচ্ছিলেন, তখন নৌ পুলিশ নৌকা লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে আক্তার হোসেন গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট পার হওয়ার পর সকাল নয়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের জামাতা আবুল বাশার অভিযোগ করেন, টহলরত নৌ পুলিশের গুলিতেই তাঁর শ্বশুরের বুকে ও মুখে ছররা গুলির আঘাত লাগে। পরে নৌ পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার নাজমুল হক জানান, তাঁদের কোনো দল ওই এলাকায় কোনো অভিযান বা গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটায়নি। একইভাবে চাঁদপুর নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, তাঁদেরও কোনো অভিযান সেখানে ছিল না। হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান জানান, ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। তাঁদের কোনো অভিযানকারী দল বুধবার রাতে নদীতে ছিল না।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলিয়াস সিকদার বলেন, ঘটনাস্থলটি চাঁদপুরের কাছাকাছি ও দুর্গম হওয়ায় প্রকৃত সত্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। আজ শুক্রবার দুপুরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


























