সৌদির সোফা কারখানায় আগুনে মৃত আরও ৭ বাংলাদেশির দেহ ফিরল দেশে
- আপডেট সময় : ১০:৩০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত এক সোফা কারখানার মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো শেষ সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২১ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি নির্দিষ্ট ফ্লাইটে লাশগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবতরন করে। নিহতদের শেষবারের মতো একনজর দেখতে বিমানবন্দরে তাদের আত্মীয়-স্বজনরা ভিড় জমায়। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে একনজর দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিচয় শনাক্তের বিলম্ব ও জটিলতা
উল্লেখ্য যে, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের সেই সোফা কারখানায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর করুণ মৃত্যু ঘটেছিল। এর মধ্যে প্রথম দফায় ৯ জন শ্রমিকের দেহ গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হয়। কিন্তু বাকি সাতজনের পরিচয় তাত্ক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে তাদের মরদেহ পাঠাতে কিছুটা সময় লাগে। পরবর্তীতে তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় পরিচয় নিশ্চিত হয়ে মরদেহগুলো স্বদেশে ফেরানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়।
মরদেহ পরিবহনের পথপরিক্রমা
মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কোনো ফ্লাইট না থাকায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় লাশগুলো প্রথমে সড়কপথে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী ধাপে সেখান থেকে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটে করে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
নিহতদের তালিকা ও নিজ এলাকার বিবরণ
ফিরে আসা সাতজন শ্রমিকের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নওগাঁ জেলায় এবং অন্য দুজনের বাড়ি নাটোর জেলায়। নিহতরা হলেন
- নওগাঁর সদর উপজেলার পার নওগাঁ এলাকার শাহিন
- আত্রাই উপজেলার দুবাই এলাকার হাসিবুল হাসান
- মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মিনহাজ প্রামাণিক
- মাধবপুর গ্রামের নিবাসী মাসিদুল সরদার
- সাহানগর গ্রামের সাগর আলী
- নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার দীঘিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শামীম
- লালপুরের খাজুরা গ্রামের শরিফ হোসেন
স্বজনদের আহাজারি ও দাফনের প্রস্তুতি
মরদেহ পৌঁছানোর পর নিহতদের নিজ নিজ পরিবার ও গ্রামের বাড়িতে শোকের গভীর মাতম ছড়িয়ে পড়েছে। নওগাঁ শহরের তাজের মোড় এলাকার নিহত শাহিনের স্ত্রী পারভীন অশ্রুসজল চোখে বলেন, ‘মানুষটাক তো হারায়েই ফেলছি। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। এখন লাশটা অন্তত দেশে থাকলে ছাওয়াল-পোয়ালরা বাপের লাশটা দেখতে পাবে।’ স্বজনরা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থেকে কফিনগুলো গ্রহণ করে নিজ গ্রামে নিয়ে গিয়ে দ্রুততম সময়ে দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং দাফনপ্রক্রিয়াসহ সব কাজে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। এদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরায় স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে।

























